ফাল্গুনের এই স্মরণীয় মাসে ১৯৫২ (১৩৫৮ বঙ্গাব্দে) সালের ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস আবারও আমাদের সামনে এসে দাঁড়ায়। ভাষা আন্দোলনকে কেন্দ্র করে রচিত প্রথম উপন্যাসে জহির রায়হানের বর্ণনায় পিজন ভ্যানের মধ্যে আসাদের কণ্ঠে উচ্চারিত সেই আহ্বান—“শহিদ স্মৃতি-- অমর হোক”, আর সর্বশেষ বাক্য, ”আসছে ফাল্গুনে আমরা কিন্তু দ্বিগুণ হবো”—আজও বাঙালির মনোজগতে অনুরণিত হয়। ভাষা শহিদদের রক্তাক্ত ও বর্ণাঢ্য ইতিহাসের স্মৃতি নিয়ে প্রকৃতিতে গাছের সবুজ পাতার ফাঁকে একটুখানি হাসি দিয়ে ফুটে আছে রঙিন সব ফুল। বার্তা দিচ্ছে নতুন ফলের। তেমনি জাতির চেতনাও নতুন করে জেগে উঠেছে আরেকটি ফাল্গুনের আত্ম কাহিনি।
১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে আমরা সত্যিই দ্বিগুণ হয়েছিলাম; ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানে আমরা আরেকবার এই নিরন্তর যাত্রার পুনরাবৃত্তি করেছিলাম। আজ বাংলাদেশ স্বাধীন। বিশ্বের বুকে সার্বভৌম রাষ্ট্র। কিন্তু প্রশ্ন রয়ে যায়— স্বাধীনতার অর্ধশতাব্দীর পরে এসেও আমরা কি ভাষা শহিদদের স্মৃতি যথার্থভাবে ধারণ করতে পেরেছি? নাকি নানা বৈরী বাস্তবতায় তাদের অমর অবদান ভুলতে বসেছি? আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের আড়ালে আমাদের শহিদ দিবস এবং সেই রক্তদানের যে মহান লক্ষ্য তা অর্জনে আমাদের আমাদের বেহাল অবস্থায় স্মৃতির পাতা থেকে হারিয়ে ফেলছি?
বাংলা ভাষা সবসময়ই ছিল এ অঞ্চলের মাটির ও মানুষের ভাষা। যাদের জীবন ও জীবিকার মৌলিক পাথেয় ছিল বাংলার মাটি পানি বাতাস ও দিগন্ত বিস্তৃত আকাশ। আর যারা বাংলার মাটিতে থেকে বৈদেশিক সংস্কৃতিতে বেড়ে উঠেছে কিংবা ধারণ করছে তাদের ভাষা কখনোই মোটাদাগে বাংলা ছিল না। সেই উচ্চবিত্ত শ্রেণির ভাষা সর্বদায় ছিল পরিবেশ ও ক্ষমতার ছত্রছায়ায়। ইতিহাসের নানা পর্যায়ে সংস্কৃত, আরবি, ফারসি ও ইংরেজি বাংলা ভাষার উপর প্রভাব বিস্তার করেছে; অনেক ক্ষেত্রে শব্দভান্ডার সমৃদ্ধ করেছে, কখনো বোধগম্যতা ও প্রাণচাঞ্চল্য বাড়িয়েছে। দীর্ঘ বিবর্তন এবং জটিল সব ধাপ পরিক্রম করেই আজেকের বাংলা ভাষার এই অবস্থান।
কিন্তু ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের প্রেক্ষাপট ছিল ভিন্ন। প্রশাসনিক রাজনৈতিক এবং শিক্ষাক্ষেত্রে বাংলাদেশের জনগণের মাতৃভাষা বাংলার বিপরীতে চাপিয়ে দেওয়া; তৎকালীন পাকিস্তানের উচ্চ শ্রেণির ভাষা উর্দুর বিপরীতে বাংলা ভাষার নিজস্ব স্বতন্ত্র, সাংবিধানিক ও রাষ্ট্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠার লড়াই ছিল এই রক্তদান। এই গৌরবময় ভাষা আন্দোলন একইসাথে রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ রচনার প্রস্তর স্থাপন করেছিল, একইসাথে পাকিস্তানের সর্ববৃহৎ জনগোষ্ঠীর ভাষাকে রাষ্ট্রীয় অধিকার স্বীকৃতি ও মর্যাদা দেওয়ার দাবিকে বৈধতা দিয়েছিল। পুরো পাকিস্তান ্আমলে শহিদ দিবস হিসেবে বাঙালি স্বাধিকার আন্দোলনের ভিত্তি স্থাপনকারী এই রক্তাক্ত অমর স্মৃতিকে সম্মানের সহিত স্মরণ করা হয়েছে। জনগণের হৃদয় থেকে বরণ করা হয়েছে, শহিদের রক্তাক্ত স্মৃতি ও সম্মান।
পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা হিসেবে বাংলা ভাষাকে চাওয়ার পেছনে, একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল বাংলাদেশের জনগণ নিজেদের শিক্ষার মাধ্যম কি হবে? তাদের চাকরি ক্ষেত্রে এবং প্রশাসনিক বিষয়াবলিতে কোন ভাষার প্রাধান্য দেওয়া হবে? বাংলাভাষীরা যেন উর্দু ভাষীদের সাথে প্রতিযোগিতা কিংবা সার্বিক যোগাযোগে কোনোভাবে বৈষম্যের শিকার না হয় সে বিষয়টি নিয়েও উদ্বেগ ছিল।
আজ বাংলাদেশ স্বাধীন। তবে, স্বাধীনতার পর সংবিধানে বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা হলেও বাস্তবে বাংলা ভাষাকে জ্ঞান-বিজ্ঞান, প্রশাসন ও উচ্চশিক্ষার পূর্ণাঙ্গ ভাষা হিসেবে গড়ে তোলার ক্ষেত্রে রাষ্ট্রের অপরিপক্বতা স্পষ্ট। এমনকি সংবিধানও প্রথমে ইংরেজিতে রচিত হয়ে পরে বাংলায় অনূদিত হয়েছে— এটিই ভাষা বাস্তবতার একটি প্রতীক। স্বাধীনতার অর্ধশতাব্দী পার হলেও শিক্ষাব্যবস্থায় বাংলা পূর্ণমাত্রায় প্রতিষ্ঠা পায়নি। জে এ লাপন্সের তত্ত্ব অনুযায়ী, যে ভাষায় বৈজ্ঞানিক গবেষণা, মৌলিক বই, প্রযুক্তি উন্নয়ন ও সফট পাওয়ার বা রাজনৈতিক কর্তৃত্ব তৈরি হয় না, সে ভাষার ক্ষমতা বাড়ে না। বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষার বিপুল অংশ ইংরেজি মাধ্যমে পরিচালিত হয়; অথচ নিজের ভাষায় উচ্চশিক্ষা না হলে জাতির আত্মিক ও সামষ্টিক উন্নতি অসম্পূর্ণ থেকে যায়।
চাকরিক্ষেত্রে ইংরেজি দক্ষতার ওপর জোর দেওয়া হয়, কিন্তু বাংলা দক্ষতার মূল্যায়ন কম। এর অর্থ ইংরেজি ত্যাগ নয়; বরং বাংলা ও ইংরেজির সমান বিকাশ দরকার। প্রশাসনে এখনো ঔপনিবেশিক মানসিকতা বিরাজমান— ইংরেজি ব্যবহারকে আভিজাত্যের চিহ্ন হিসেবে দেখা হয়, অথচ দেশের অধিকাংশ মানুষ ইংরেজি ভাষাকে বোধগম্য করে না। আইন শিক্ষা ও বিচারব্যবস্থায়ও ইংরেজির একচ্ছত্র প্রাধান্য; যা মাতৃভাষায় জ্ঞানের চর্চা ও বিকাশকে বাধাগ্রস্ত করছে। পাশাপাশি এই মাতৃভাষায় যদি আইন শিক্ষা দেওয়া না হয় তাহলে মাতৃভাষা বা বাংলায় আইনি বিষয়াদির মৌলিক চর্চার চিন্তা করাও নিরর্থক।
বর্তমান সময়ে এসে প্রযুক্তির ব্যবহারের ক্ষেত্রেও আমরা ভাষা শহিদদের স্মৃতি ভুলে যাচ্ছি। ডিজিটাল যোগাযোগে ইংরেজি হরফে বাংলা লেখার প্রবণতা বাড়ছে। আমাদের ভুলে গেল চলবে না যে ভাষা আন্দোলনের পটভূমিতে বলা হয়েছিল আরবি হরফ বাংলা ভাষার লেখার চর্চা করার কথা। এই সংস্কার বাস্তবায়নের লক্ষ্যেই আমাদের বাংলা অ্যাকাডেমির প্রাথমিক ভিত্তি প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল। তবে আমরা এই অপচেষ্টা রেখে দিতে পারলেও, কালের বিবর্তনে নিজেদের ভাষার কর্তৃত্ব অন্য ভাষার বর্ণমালা দিয়ে মুছে দিতে চেষ্টা করছি। যে ভাষার জন্য রক্ত দেওয়া হয়েছে, সেই ভাষাকে নিজের বর্ণমালায় না লিখে অন্য বর্ণমালায় প্রকাশ করা দীর্ঘমেয়াদি অপরিণামদর্শী আচরণ। যা আমাদের নিজেদের সম্পর্কে আমাদের বেখেয়ালি আচরণকেই নির্দেশ করে এবং এই চর্চা আমাদের ভবিষ্যৎকে আরো আধারে নিয়ে যাবে বললে ভুল হবে না। কোন ভাষার স্থায়িত্ব বৃদ্ধি করতে গেলে, অবশ্যই সে ভাষার সাহিত্যকে বৃদ্ধি করতে হয়। ভাষার প্রবহমান বিবর্তনের দিকে সুষ্ঠু নজর রাখতে হয়। অতিরিক্ত পরিবর্তন বা স্থবিরতা উভয়ই ভাষার মৃত্যুর কারণ হয়ে দাঁড়ায়। বাংলা ভাষা ঠিক সেই দিকেই যাচ্ছে বললে এই মুহূর্তে ভুল বলতে পারলেও আগামী কয়েক দশকের মধ্যে বাংলা ভাষার ভবিষ্যৎ নিয়ে আরও আমাদের উৎকণ্ঠা সত্যিই আরো বাড়বে।
বাংলা ভাষার এই মহৎ কীর্তির আরেকটি অপরিণামদর্শী চিন্তা হচ্ছে আমরা বাংলা সাল তারিখের পরিবর্তে ইংরেজি সাল তারিখের নামে ভাষা শহিদ দিবসকে স্মরণ করে থাকি। যেহেতু এটি বাংলা ভাষার শহিদদের স্মরণে এবং বাংলা ভাষার মর্যাদায় দিবসটি পালন করা হয়, তাহলে ইংরেজি ভাষা বা মাসের নামে এই তারিখ পালনের বিপরীতে বাংলা মাস এবং তারিখের নামে এই দিবস পালন করায় কাম্য। বাংলা ভাষার নিজস্ব বর্ষপঞ্জি বিদ্যমান। সে কথা আমাদের ভুলে গিয়ে বিদেশি বর্ষপঞ্জি অন্তত এখানে ব্যবহার করা কাম্য নয়।
আমরা বর্তমান সময়ে এসে বাংলা ভাষার শহিদ দিবস এবং আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস এই দুইটি জিনিসকে একসাথে গুলিয়ে ফেলার প্রবণতা লক্ষ্য করছি। ভাষা শহিদ দিবস এটি বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের ভিত্তি দান করেছে। বাংলাদেশ রাষ্ট্রের জন্ম লাভের প্রসব বেদনার পত্তন ঘটিয়েছে এই শহিদ দিবস। আর এই শহিদ দিবসের আন্তর্জাতিক একটি স্বীকৃতির হল আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস। আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস আমাদের কোন জাতীয় দিবস নয়; তবে আন্তর্জাতিক। বরং আমাদের নিজেদের রক্ত দিয়ে কেনা দিবস হচ্ছে শহিদ দিবস। আমাদেরকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালন করতে গিয়ে শহিদ দিবসের স্মৃতি ভুলে গেলে চলবে না। এই পার্থক্য বোঝা জরুরি।
বাংলা পৃথিবীর অন্যতম বৃহত্তম জনগোষ্ঠীর মাতৃভাষা হলেও বাস্তবে এই ভাষা এখনো নিজের পরিধির মধ্যেই পূর্ণ বিকাশ লাভ করতে পারেনি; বরং অনেক ক্ষেত্রেই অপরিপক্বতার ঘূর্ণিতে আটকে আছে। প্রযুক্তিনির্ভর আধুনিক যোগাযোগমাধ্যমে বাংলা ব্যবহারের পরিধি সীমিত, যেখানে তুলনামূলকভাবে ছোট ইউরোপীয় ভাষাগুলো আন্তর্জাতিক পরিসরে শক্ত অবস্থান গড়ে তুলেছে। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে বাংলা ভাষা ও সাহিত্য সম্পর্কে উচ্চতর ডিগ্রি প্রদান করা হচ্ছে। বাংলা ভাষা ও সাহিত্য নিয়ে উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার এই বর্ধিত সুযোগ— একটি ইতিবাচক লক্ষণ। কিন্তু এখনো বাংলা ভাষার দক্ষতা যাচাইয়ের জন্য আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন কোনো স্বীকৃত পরীক্ষা পদ্ধতি গড়ে ওঠেনি, যেমন ইংরেজির জন্য IELTS বা মান্দারিনের জন্য HSK আছে। ফলে বাংলা ভাষার প্রাতিষ্ঠানিক মূল্যায়ন ও বৈশ্বিক গ্রহণযোগ্যতা সীমিতই থেকে যাচ্ছে।
আজকের পুঁজিবাদী বিশ্বে ভাষাও পণ্য। বাংলা ভাষাকে টিকিয়ে রাখতে জ্ঞান-বিজ্ঞান, সাহিত্য, প্রযুক্তি, বিনোদন, বাণিজ্য, শিল্প প্রতিষ্ঠান এবং প্রশাসন— সব ক্ষেত্রে এর আধিপত্য বাড়াতে হবে। ভাষা শহিদদের রক্তের ঋণ শোধ করতে দরকার সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা ও বাস্তবায়ন। সরকার, একাডেমিয়া, গণমাধ্যম ও জনগণ সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।
আজকের পুঁজিবাদী বিশ্বে ভাষাও এক ধরনের পণ্য— যে ভাষা জ্ঞান-বিজ্ঞান, সাহিত্য, প্রযুক্তি, বিনোদন, বাণিজ্য, শিল্প প্রতিষ্ঠান, প্রশাসন ও বাজারে নিজেকে প্রতিষ্ঠা করতে পারে না, সে ভাষা ধীরে ধীরে প্রান্তিক হয়ে পড়ে। বাংলা ভাষার জন্য এই বাস্তবতা অস্বীকার করার সুযোগ নেই। আমাদের ভাষাকে টিকিয়ে রাখতে হলে কেবল আবেগ নয়, প্রয়োজন জ্ঞান-বিজ্ঞান, সাহিত্য, প্রযুক্তি, গণমাধ্যম ও রাষ্ট্রপরিচালনার প্রতিটি স্তরে এর শক্ত অবস্থান তৈরি করা। ভাষা শহিদদের রক্তের ঋণ শোধের প্রকৃত পথ এটাই— বাংলাকে মর্যাদার ভাষা থেকে জ্ঞানের ভাষায় উন্নীত করা।
ইতিহাস আমাদের শেখায়, আরবি ও কালক্রমে ফারসি ভাষা মধ্যযুগে গ্রিক পাণ্ডুলিপি অনুবাদ করে জ্ঞানচর্চার কেন্দ্র হয়ে উঠেছিল; নিজেদের ভাষায় বিজ্ঞান, দর্শন ও সাহিত্য চর্চা করেই তারা বিশ্বে প্রভাব বিস্তার করেছিল। আজকের ইউরোপীয় এবং উত্তর আমেরিকার ভাষাগুলোর আধিপত্যের পেছনেও একই কারণ কমবেশি বিদ্যমান। কালের মান্দারিন ভাষার ক্ষেত্রেও এই কথা সত্য। আমাদেরও একই পথ ধরতে হবে— নিজেদের ভাষায় গবেষণা, প্রযুক্তি উদ্ভাবন, মৌলিক গ্রন্থ রচনা এবং আন্তর্জাতিক মানের জ্ঞানভাণ্ডার গড়ে তোলা। না হলে ভাষা টিকে থাকবে কেবল স্মৃতিতে, বাস্তবে নয় পাশাপাশি হারাবে তার বিদ্যমান সামান্য কর্তৃত্বও।
বাংলা ভাষার ভবিষ্যৎ এখনো উজ্জ্বল হতে পারে, যদি সরকার, একাডেমিয়া, গণমাধ্যম ও জনগণ একসাথে সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা গ্রহণ করে। ভাষা শহিদদের স্মরণ মানে শুধু ফুল দেওয়া নয়— নিজের ভাষায় চিন্তা করা, গবেষণা করা, নতুন প্রযুক্তি নির্মাণ করা। এই শহিদ দিবসের এই মাসে তাই আমাদের প্রতিজ্ঞা হোক— বাংলাকে জীবনের সব ক্ষেত্রে শক্ত ও প্রাণচঞ্চল ভাষা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা। তবেই শহিদদের রক্তের প্রতি সত্যিকারের সম্মান জানানো সম্ভব হবে।
লেখক: শিক্ষার্থী, গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়; ও গবেষক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় গবেষণা সংসদ








